ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার চীনের ব্যাপক আকারে চীনের বিনিয়োগ আসবে, আশা প্রেস সচিবের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় বেইজিংয়ের কাছে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চায় ঢাকা ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ডাকাতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ নিরাপত্তা দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সুনামগঞ্জে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ আহত ৬ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংস্কারের কথা বলেও পরে কথা রাখেনি- নাহিদ ঈদে ফিরতি যাত্রায় ৮ এপ্রিলের টিকিট মিলবে আজ মিয়ানমারে দু’দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশও পানি সঙ্কটে উত্তরাঞ্চলের কৃষি বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরে সহায়তা করবে চীনা এক্সিম ব্যাংক ভারত থেকে কেনা হবে আরও ৫০ হাজার টন চাল ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে তিন স্তরের নিরাপত্তা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হলেও অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসবে না-অর্থ উপদেষ্টা মিয়ানমারে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ রাজধানীতে তীব্র যানজট

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

  • আপলোড সময় : ২৬-০৩-২০২৫ ০৩:০৭:৫৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৩-২০২৫ ০৩:০৭:৫৯ অপরাহ্ন
স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে, আমরা এ সুযোগ হারাতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে দুর্নীতি, গুম ও খুনের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশে। ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ দূর করে আমাদের নতুন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। এই বাংলাদেশ নতুন করে গড়ার সুযোগ আমাদের হাতে, আমরা এই সুযোগ হারাতে চাই না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
জাতীয় পর্যায়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এবার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৫’ এ ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে ছয়জন মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন এবং জীবিতদের মধ্যে রয়েছেন লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর। প্রধান উপদেষ্টা মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেন। এবার যারা স্বাধীনতা পুরুস্কার পেলেন তারা হলেন-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে এখনও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এদেশের মানুষকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দুর্নীতি, লুটপাটতন্ত্র ও গুম-খুনের রাজত্ব চালিয়ে দেশে একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে, মরণোত্তর পুরস্কার দেয়ার চাইতে জীবদ্দশায় পুরস্কার পেলে যে আনন্দ, দেশের জন্য, পরিবারের জন্য, ব্যক্তির জন্য; তা মরণোত্তর পুরস্কারে পাওয়া যায় না। যাকে আমরা সম্মান দেখাচ্ছি তিনি আমাদের সঙ্গে নেই। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যেন আগামীতে একটা নিয়ম করতে পারি, যাদের মরণোত্তর পুরস্কার দেয়ার, তাদের পালা শেষ করে দিয়ে, যারা জীবিত অবস্থায় আছেন তাদেরকে যেন পুরস্কার দিই। তাদের প্রতি সম্মানটা আমরা দিই।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ২৫ মার্চ, মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত এক হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হাজারো মানুষকে হত্যা করে। ২৫ শে মার্চ থেকেই এ দেশের মানুষ সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ৯ মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছি। এ সুযোগ আমরা কোনোক্রমেই বৃথা যেতে দেব না। জীবিত থাকা অবস্থায় স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা আজ এ সম্মাননা পেলেন তাঁরা জীবদ্দশায় এ প্রাপ্তি দেখে যেতে পারেননি। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আজকের দিনে তাঁদের অবদানকে আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।
জীবিত থাকতে পুরস্কার পেলে সেটা নিজের এবং পরিবারের জন্য আরও আনন্দের হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাকে আমরা সম্মান দেখাচ্ছি তিনি আমাদের মধ্যে নেই। আমরা যেন আগামীতে এমন একটা নিয়ম করতে পারি যাদের মরণোত্তর দেয়ার, তাদের পালা শেষ করে যারা জীবিত আছেন, প্রতিবছর তাদের অর্ধেককে যেন  পুরস্কার দেয়া যায়।
স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তরা দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যাদেরকে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে আমরা কেবল তাদেরকে সম্মানিত করছি না, জাতি হিসেবে আমরাও সম্মানিত হচ্ছি। তারা এই জাতির জন্য অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। তাদের কথা তাদের জীবদ্দশায় স্মরণ করতে না পারলে আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবো। যাদেরকে আমরা এই সম্মান দিতে চাই-সেটা যথাসময়ে যেন আমরা দিতে পারি। স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে জেন-জি প্রজন্ম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনুপ্রেরণার নাম বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। সে ন্যায়বিচারের জন্য, বাকস্বাধীনতার জন্য জোরালো প্রতিবাদ করে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছিল। তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ মো. আব্দুর রশীদ পুরস্কার বিতরণী পর্বটি সঞ্চালনা করেন। তিনি পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাগণ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ও বিশেষ সহকারীবৃন্দ এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কমকর্তা ও রাজনৈতিকদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ